"কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য"
সুজলা সুফলা গিরি কুন্তলা পাহাড় টিলা নদ-নদী খাল-বিল বন-বনানী বেষ্টিত রাউজান উপজেলা বাংলাদেশের একটি বহুল প্রশংসিত সমীহের সাথে উচ্চারিত উপজেলা। হযরত আশরাফ শাহ্ (রঃ), আকবর শাহ্ (রঃ), এয়াছিন শাহ্ -এর মতো বহু পীর আউলিয়া আধ্যাত্মিক সাধক, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা যোদ্ধা বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনসহ বহু বিপ্লবী বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বদেশখ্যাত রাজনীতিবিদ, মধ্যযুগের খ্যাতিমান কবি হামিদ আলী, মহাকবি নবীন সেনসহ বহু কবি সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, উপমহাদেশের অত্যন্ত যশস্বী কবিয়াল ফণি বড়ুয়া, এশিয়া বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. বেণীমাধব বড়ুয়াসহ বহু বহু জ্ঞানী-গুণীর পুণ্যভূমি এই রাউজান। এই উপজেলার তথা উত্তর রাউজানের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হযরত এয়াছিন শাহ্ পাবলিক কলেজ। শিক্ষার বিকল্প শিক্ষা। শিক্ষার আলোয় এলাকার মানুষগুলোকে আলোকিত করতেই ১৯৯৫খ্রিষ্টাব্দে ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজ-সেবক শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুল ওহহাব বিএবিএড এর নেতৃত্বে এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য শিক্ষানুরাগী সমাজ হিতৈষীকে নিয়ে অত্র অঞ্চলের আউলিয়া হযরত এয়াছিন শাহ্ (রঃ) -এর নামে এয়াছিন নগরে প্রতিষ্ঠা করেন এই কলেজ। এই এলাকা ও এলাকার কাছাকাছি বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থাকলেও উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায়, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে বাধা ও অনাগ্রহ দেখা দেয়। এমতাবস্থায় "হযরত এয়াছিন শাহ্ পাবলিক কলেজ" প্রতিষ্ঠা হওয়ায় বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চ-শিক্ষার দ্বার উন্মোচনের এই সুবর্ণ-সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষার এক অভূতপূর্ব সাড়া পড়ে যায়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কলেজের বহু বহু শিক্ষার্থী সরকারি বেসরকারি কলেজে, স্কুলে শিক্ষকতা, সরকারি বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত থেকে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। এলাকার বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, সন্ত্রাসসহ নানা অন্যায়, অনিয়ম অনৈতিকতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাসে এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে এই কলেজ ব্যাপক ভূমিকা অবদান রেখে চলেছে।
নৈসর্গিক প্রকৃতির অপরূপ মালঞ্চে তারুণ্যদীপ্ত তরুন-তরুণীদের উচ্চ শিক্ষার চারণভূমি ঐতিহ্যবাহী এই কলেজ। তিনতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবন, চারতলা বিশিষ্ট আইসিটি ভবন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি তার অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে চলছে। জ্ঞান-গরিমা, প্রজ্ঞা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, গুণগত মান অর্জন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়া, পরীক্ষা পদ্ধতি আজ অনেকের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জাতীয় দিবস উদযাপন,দেয়ালিকা প্রকাশ প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও বাঙালি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতির চর্চায় এ প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
উত্তরোত্তর সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে এই কলেজটি উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হবে এই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।